ঢাকা   বুধবার
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
১৪ মাঘ ১৪৩২, ০৮ শা'বান ১৪৪৭

৪ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে অল্প খরচে দ্বিগুণ লাভ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৩৩, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৮:৩১, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

৪ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে অল্প খরচে দ্বিগুণ লাভ

ছাগলের বিভিন্ন পালন পদ্ধতি রয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ৪ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করলে দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব। অল্প খরচের মাধ্যমে রোগ-বালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই লাভবান হওয়া সম্ভব।সরকার ছাগল পালনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।

সাধারণত ৪ ধরণের পদ্ধতিতে ছাগল পালন করা যেতে পারে:

১. অঙ্গিনায় বা মাঠে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে ছাগল পালন (পারিবারিকভাবে ছাগল পালন)।

২. মুক্তভাবে ছাগল পালন।

৩. আধা নিবিড় (সেমি-ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার।

৪. নিবিড় (ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার।

১. অঙ্গিনায় বা মাঠে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে পালন (পারিবারিকভাবে ছাগল পালন)

১. পারিবারিকভাবে ছাগল পালনের জন্য ২-৫ টি ছাগল রাখা হয়।

২. এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন সহজ ও খরচ নাই বল্লেই চলে।

৩. সাধারণত এ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে বাস¯’ানে বাড়তি কোন ঘাস সরবরাহ করা হয় না।

৪. সে জন্য পৃথক কোন আবাসনের প্রয়োজন হয়না।

৫. আমাদের দেশে বেশীরভাগ কৃষক এ পদ্ধতিতে ছাগল মাঠে ছেড়ে বা মাঠে বেঁধে ঘাষ খাওয়ান।

৬. এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করতে বাড়তি কোন লোকবলের প্রয়োজন হয় না।

৭. তবে মাঠে ছেড়ে ছাগল পালন করলে অনেক ক্ষেত্রে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

৮. ভাল উৎপাদন এর জন্য এদেরকে দানাদার খাদ্যে সরবরাহ করতে হয়।

২. মুক্তভাবে ছাগল পালন

১.এই জাতীয় খামারে সাধারণত ৮-১০ টি ছাগল পালন করা হয়।

২. চাষাবাদের অনুপযোগী উচু জমি যেমন পাহাড়, পুকুর পাড়, রাস্তার ধারে, অথবা চর এলাকায় পতিত
ভূমিতে এদেরকে দিনে মাঠে চড়িয়ে সন্ধায় বাড়িতে এনে চারিদিকে বেড়া/ঘেরাও দিয়ে রাখা হয়।

৩. সাধারণত এ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে বাস¯’ানে বাড়তি কোন ঘাস সরবরাহ করা হয় না।

৪. তাই এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করতে আলাদা করে ঘাষ চাষের প্রয়োজন হয় না।

৫. এদেরকে রাতে দানাদার খাদ্যে সরবরাহের ব্যব¯’া করতে হয়।

৬. এ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে কমপক্ষে এক জন লোকের প্রয়োজন।

৭. চর এলাকায় এ পদ্ধতিতে ছাগল খামার করা লাভজনক।

৮. চর এলাকায় ছাগল চড়ে-বেড়ানোর জন্য অনেক যায়গা পায়, এখানে রোগবালাই কম, তাই খাদ্য ও
রক্ষনাবেক্ষণ খরচও অন্যাান্য ¯’ান থেকে তুলনামূলকভাবে কম হয়।

৯. বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে চর এলাকা ছাড়া দেশের অধিকাংশ ¯’ানেই এ পদ্ধতিতে ছাগল পালন
করা প্রায় অসম্ভব।

৩. আধা নিবিড় (সেমি-ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার

১. এই জাতীয় খামারে সাধারণত একসাথে ১৫-২০টি বা আরো বেশী সংখ্যক ছাগল পালন করা হয়।

২. মুক্তভাবে ছাগল পালনের মত এ পদ্ধতিতেও দিনের বেলায় ছাগলকে মাঠে চড়ানো হয় এবং রাতে
বাড়িতে এনে আবদ্ধ অব¯’ায় রাখা হয়।

৩. এদেরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য সম্পূরক খাদ্য হিসাবে ঘাস ও দানাদার খাদ্য দেয় হয়।

৪. এ পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ছাগল পালন করা হয় বিধায় ছাগলের পুষ্টি, প্রজনন ও স্বা¯’্য বিষয়ে
যথাযথ যত্ন নেয়া সম্ভব হয়।

৫. এ পদ্ধতিতে ছাগলের উৎপাদন আশানুরূপ হয়।

৬. বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিকভাবে ছাগল পালনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী।
তবে এ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ ও বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে একটু বেশী।

৭. একসাথে অধিক সংখ্যক ছাগল একত্রে থাকে বিধায় বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগ যেমন- চর্ম রোগ, একথাইমা,
ডায়েরিয়া ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বেশী দিতে পারে।

৪. নিবিড় (ইন্টেনসিভ) পদ্ধতিতে ছাগল খামার

১. এই জাতীয় খামারে আবদ্ধ অব¯’ায় ছাগল পালন করা হয়, তাই খামারের সেড ও ব্যব¯’াপনার সুযোগ
অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাগল পালন করা হয়।

২. এ পদ্ধতিতে ছাগলের সেডে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার ঘাস ও দানাদার খাদ্য সরবরাহ করা হয়

৩. ঘাস সরবরাহের জন্য খামারে উচ্চ ফলনশীল প্রয়োজনীয় ঘাস চাষ করা হয়।

৪. এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ছাগল পালন করা হয় বিধায় ছাগলের পুষ্টি, প্রজনন ও স্বা¯’্য বিষয়ে বিশেষ
যত্ন নেয়া সম্ভব হয়।

৫. অল্প জায়গায় অধিক সংখ্যক ছাগল পালন করা যায়। তবে খামারের প্রাথমিক বিনিয়োগ ও উৎপাদন
খরচ তুলনামূলকভঅবে বেশী হয়।

৬. একসাথে অধিক সংখ্যক ছাগল একত্রে থাকে বিধায় বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগ যেমন- চর্ম রোগ, একথাইমা,
ডায়েরিয়া ইত্যাদি রোগের প্রকোপ বেশী দেখা দিতে পারে।

৭. আমাদের দেশের ছাগল সাধারণত আবদ্ধ আব¯’ায় থাকতে পছন্দ করে না তাই ছাগল সংগ্রহের সাথে
সাথেই সম্পূর্ণ আবদ্ধ অব¯’ায় রাখা উচিত নয়।

৮. প্রথমে ছাগলকে দিয়ে ৬-৮ ঘন্টা চরিয়ে বাকি সময় আবদ্ধ অব¯’ায় রেখে পর্যাপ্ত খাদ্য (ঘাস ও দানাদার
খাদ্য) সরবরাহ করতে হবে।

৯. এভাবে ১-২ সপ্তাহের মধ্যে চরানোর সময় পর্যায়ক্রমে কমিয়ে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অব¯’ায় রাখতে হবে।

১০. তবে বাচ্চা বয়স থেকে আবদ্ধ অব¯’ায় রাখলে এ ধরণের অভ্য¯’তার প্রয়োজন নেই।

৪ পদ্ধতিতে ছাগল পালনে ছাগল সুস্থ থাকে। দৈহিক বৃদ্ধি হয় সনাতন পদ্ধতির চেয়ে বেশি। ফলে অল্প খরচে দ্বিগুণ লাভ হয় এসব পদ্ধতিতে। লেখাটি এনএটিপি প্রকল্পের ছাগল পালন সিআইজি থেকে নেওয়া হয়েছে।