ঢাকা   বুধবার
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
১৪ মাঘ ১৪৩২, ০৮ শা'বান ১৪৪৭

চলতি অর্থবছরের ৬ মাস

কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৯%

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৫৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৯%

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে কৃষি খাতে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা চার হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ বেশি। ব্যাংকগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত পুরো অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ছয় মাসে বিতরণ হয়েছে  ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ প্রদানের আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কৃষিতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। মোট শ্রমশক্তির ৪৬ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত। প্রতিবছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে ঋণ বাড়লেও কৃষি খাত সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী  চলতি অর্থবছর কৃষিতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি আদায়ও বেড়েছে। গত ৬ মাসে এ খাত থেকে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। এবার আদায় বেশি হয়েছে দুই হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অথচ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করা জরুরি।

ঋণ সীমিত থাকায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, যান্ত্রিকীকরণ, বীজ-সার-সেচ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের কৃষি ও কৃষকের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে দলগতভাবে প্রকাশ্য ঋণ বিতরণ বাড়ানো হয়েছে। সরাসরি ব্যাংকের শাখা ছাড়াও এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, এরিয়া অ্যাপ্রোচ পদ্ধতি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এমএফআই-লিংকেজ ব্যবহারের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।