ঢাকা   বুধবার
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
১৪ মাঘ ১৪৩২, ০৮ শা'বান ১৪৪৭

কাঁচাপাটের তীব্র সংকটে মিল বন্ধ হওয়ার উপক্রম

Argi24

প্রকাশিত: ০৮:৫০, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

কাঁচাপাটের তীব্র সংকটে মিল বন্ধ হওয়ার উপক্রম

কাঁচাপাটের তীব্র সংকটে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সদস্যভুক্ত পাটকলগুলো বন্ধের উপক্রম হয়েছে। প্রায় ২৬০টি পাটকল এই দুই সংগঠনের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে দুই সংগঠন।

এ বিষয়ে বিজেএমএ ও বিজেএসএ যৌথভাবে গতকাল সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে এসে মিলগুলোতে পর্যাপ্ত কাঁচাপাটের অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে কাঁচাপাট রপ্তানির সুযোগ থাকায় বাজারে পাটের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে মিলগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচাপাট সংগ্রহ করতে পারছে না এবং বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পাটপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কাঁচাপাটের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী বিপুল পরিমাণ পাট মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে বাজারে সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং পাটের দাম ক্রমাগত বাড়ছে।

সংকট নিরসনে গত ১৩ জানুয়ারি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজেএমএ ও বিজেএসএ মজুতদারদের নামের তালিকা পাট অধিদপ্তরের কাছে জমা দেয়। পরে গত ২১ জানুয়ারি পাট অধিদপ্তরে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের উপস্থিতিতে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ব্যবসায়ীরা ভারতে রপ্তানির জন্য যে পরিমাণ কাঁচাপাট মজুত করে রেখেছেন, তা নগদ মূল্যে মিলগুলোর কাছে বিক্রি করলে মিলগুলো উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে। পাশাপাশি মিলগুলোর প্রকৃত কাঁচাপাটের চাহিদা নির্ধারণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

তবে বিজেএমএ ও বিজেএসএ জানিয়েছে, পাট অধিদপ্তর থেকে মজুতদারদের বিরুদ্ধে নামমাত্র কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবে তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কাঁচাপাট বাজারে ছাড়ছেন না। এর ফলে একের পর এক পাটকল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে শ্রমিকদের বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় মজুতদারদের বিরুদ্ধে সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের কাঁচাপাট ব্যবসায়ীদের কাছে বিভিন্ন গুদামে মজুত থাকা কাঁচাপাট যৌক্তিক দামে মিলগুলোর কাছে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে বিজেএসএর চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক সমকালকে বলেন, ‘সব কাঁচাপাট এখন মজুতদারদের হাতে চলে গেছে। সরকারকে বিষয়টি জানানোর পর কিছু ক্যাম্পেইনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও দিন শেষে কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে মিল মালিকরা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। এটি সরকারকে জানানো হয়েছে।’
 
তিনি আরও বলেন, শর্তসাপেক্ষে কাঁচাপাট রপ্তানির সুযোগ থাকলেও এর আগে বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা মৌখিকভাবে রপ্তানির অনুমোদন না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আপাতত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও কাঁচাপাট রপ্তানির অনুমোদন দিচ্ছে না। এরপরও মজুতদারদের হাতে পাট চলে যাওয়ায় মিলগুলো কাঁচামাল পাচ্ছে না। তাঁর আশঙ্কা, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বাজারে আরও বেশি দামে পাট বিক্রি করা হবে।