ঢাকা   সোমবার
২৬ জানুয়ারি ২০২৬
১২ মাঘ ১৪৩২, ০৭ শা'বান ১৪৪৭

বরই বাগান বদলে দেয় দুই তরুণের ভাগ্য 

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৪৫, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

বরই বাগান বদলে দেয় দুই তরুণের ভাগ্য 

দুই তরুণ রাব্বি হাসান ও শাহাদত হোসেন। ২০১৮ সালে বদলগাছী উপজেলায় এক বরই বাগান দেখে তারা কৃষিতে উদ্বুদ্ধ হন। ২০২০ সালে দুই বন্ধু মিলে মাত্র দুই বিঘা জমিতে শুরু করেন বরই বাগান। এই বাগান গড়েই বদলে যায় তাদের ভাগ্য। দুই তরুণের সাফল্য দেখে অন্যরাও ঝুঁঁকছেন বরই চাষে।

গাছে কাঁচা সবুজ, পাকলে সিঁদুর লাল কিংবা হলুদ। দেখতে অনেকটা ছোট আপেলের মতো। খেতেও আপেলের মতো সুস্বাদু। নামটা অদ্ভুত হলেও দেখতে আকর্ষণীয়। রসালো সবুজ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা এ ফলটির নাম ‘বল সুন্দরী’। সাধারণত এ ফল অস্ট্রেলিয়ায় চাষ হয়। এখন বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে এ ফলের চাষ হচ্ছে।

বাজারে এর চাহিদা বেশি হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। এক-একটি গাছ ৫-৬ হাত লম্বা হয়। এ বরই চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলার বর্ষাইল গ্রামের দুই বন্ধু ও তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা রাব্বি হাসান ও শাহাদত হোসেন। দূরদূরান্ত থেকে অনেক বেকার তরুণ এসে দেখছেন তাদের বাগান। দুই তরুণের এ সাফল্য দেখে অন্যরাও ঝুঁকছেন বরই চাষে।

উদ্যোক্তা রাব্বি হাসান বলেন, ‘২০১৮ সালে এসএসসি পাস করার পর বেকার হয়ে পড়ি। তখন আমার বন্ধু শাহাদত হোসেন মিলে কৃষিতে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নিই। এ ভাবনা থেকে পার্শ্ববর্তী বদলগাছী উপজেলার তুরান ভাইয়ের বরই বাগান ঘুরে আসি।’

এরপর ২০২০ সালে দুই বন্ধু মিলে মাত্র ২ বিঘা জমিতে বরই বাগান শুরু করেন। পরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে বাগান বড় করেন। ভালো বল সুন্দরীর চারা, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ করেন। এখন তাদের বল সুন্দরীর বাগান ১১ বিঘাতে দাঁড়িয়েছে। তবে তদের এ কাজে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন মৌসুমীর কৃষি কর্মকর্তারা।

তিনি আরও বলেন, ‘এবার প্রতি গাছে প্রায় ১০-১৫ কেজি করে বল সুন্দরী ধরেছে। ইতোমধ্যে বাগান থেকে বরই বিক্রি করেছি ২ লাখ টাকার।’ শ্রমিকরা বাগানে কুল তোলা ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি করেছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আরও ৮ লাখ টাকার বরই বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।

বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, দুই বন্ধুর বাগানে নিয়মিত তিনজন শ্রমিক দিনরাত পরিচর্যা করেন। বাগানের বরইগুলো অতি মিষ্টি, খেতে আপেলের মতো সুস্বাদু। বল সুন্দরী দেখতে আসা দর্শনার্থী জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আপেলের চেয়ে মিষ্টি বল সুন্দরী। খেয়ে তৃপ্তি পেলাম। এ ফল মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।’ বাউকুল, আপেল কুল, কাশ্মীরি কুলের চেয়ে এর বেশি চাহিদা রয়েছে।

আরেক দর্শনার্থী নূর হোসেন জানান, তিনি বাগানের ধারের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। বল সুন্দরী দেখে বাগানে গিয়ে কয়েকটি বরই খেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বরইগুলো খুব মিষ্টি ও সুস্বাদু। এর আগে এত সুন্দর বরই খাইনি।’ তরুণ উদ্যোক্তা রোস্তম আলী বলেন, ‘রাব্বি ও শাহাদত ভাইয়ের কুল চাষের কথা শুনে এখানে এসেছি। তার সফলতা দেখে অভিভূত হয়েছেন। আমিও বরই চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’

মৌসুমীর কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল কুল চাষ করে নওগাঁর দুই বেকার তরুণ রাব্বি ও শাহাদত বেশ লাভবান হয়েছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া কুল চাষে খুবই উপযোগী। পিকেএসএফের সহযোগীতায় মৌসুমী তাদের নিয়মিত পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দেখে বেকার শিক্ষিত যুবকরা কুল চাষে আগ্রহী হবে।’

সর্বশেষ