ঢাকা   শুক্রবার
০৬ মার্চ ২০২৬
২১ ফাল্গুন ১৪৩২, ১৭ রমজান ১৪৪৭

আজ বিশ্বা বাঘ দিবস

সুন্দরবনে ৮ বছরে বাঘ বেড়েছে ১১টি, বর্তমানে আছে ১২৫টি

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ২৯ জুলাই ২০২৫

সুন্দরবনে ৮ বছরে বাঘ বেড়েছে ১১টি, বর্তমানে আছে ১২৫টি

আজ ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস। বাংলাদেশসহ বাঘের বসবাস এমন দেশগুলোতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সুন্দরবনে ২০১৮ সালের ২২ মে’র জরিপে রয়েল বেঙ্গ টাইগার বা বাঘের সংখ্যা ছিল ১১৪টি, সেখানে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবরের সর্বশেষ ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের জরিপে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। 

অর্থাৎ ৮ বছরে বাংলাদেশের সুন্দরবনের বাঘ বেড়েছে ১১টি। ‘মানুষ-বাঘের সুরেলা সহাবস্থান’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাঘের বংশ বৃদ্ধির অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে বাঘ দিবস। ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশ অংশে ২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫৫টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। 

এরমধ্যে স্বাভাবিক ভাবে মারা গেছে মাত্র ১৫টি। লোকালয়ে ঢুকে পড়া ১৪টি বাঘকে পিটিয়ে মেরেছে স্থানীয় জনতা, ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে একটি বাঘ মারা পড়েছে ও বাকী ২৫ বাঘ হত্যা করেছে চোরাশিকারীরা। চোরাশিকারীরা অধিক মুনাফার আশায় বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, চামড়া, হাড়, দাঁত, নখ পাচার ছিল এক সময়ে নিত্যদিনের ঘটনা। আর তা চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলে যেত দেশ ও দেশের বাইরে।

সুন্দরবন বিভাগসহ বন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোরাশিকারি পাশাপাশি বাঘের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হবার কারণেও হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনে বাঘ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এ অবস্থায় হারিয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ২০৭০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বাঘের জন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা থাকবে না। কেননা, বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধিসহ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সুন্দরবনে টিকে থাকা এসব বাঘ বিলীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই অবস্থায় সুন্দরবনে বাঘের আবাসভূমি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। 

তবে, তবে আশার খবর হচ্ছে সুন্দরবনে একের পর এক বনদস্যুদের আত্মসম্মান ও কঠোর নজরদারির ফলে এখন বাঘ নিধন কমে এসেছে। পাশাপাশি বর্তমানে সুন্দরবন সুরক্ষাসহ বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের আয়তনের ২৩ ভাগ থেকে ৫১ ভাগ এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা নেয়ায় বাঘ কিছুটা হলেও স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে এপর্যন্ত সুন্দরবন ও লোকালয়ে বাঘের হামলায় শতাধিক মানুষ মারা যায় ও প্রায় এক শত জেলে-বনজীবী আহত হয়েছে বলে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপকড. শিউলী সূত্রধর জানান, সুন্দরবনে বাঘ কম থাকার অন্যতম কারণ চোরাশিকারী ও বনদস্যুদের দ্বারা বাঘ নিধন। বাঘের মূল্য অনেক বেশী। বাঘ শিকার করে দ্রুত তা চোরা মার্কেটে চলে যাচ্ছে। সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা আরো বাড়াতে আবাস স্থল, খাবার ও প্রজনন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।

সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, এক সময়ে সুন্দরবনে চার শতাধিক বাঘ ছিল। কঠোর নজরদারি না থাকায় চোরাশিকারিদের কারণে বাঘ কমে যাবার অন্যতম কারণ। এজন্য বন বিভাগকে দায় স্বীকার করে নিতে হবে। বাড়াতে হবে কঠোর নজরদারি। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে হুমকির মুখে রয়েছে সুন্দরবনে বাঘ। এখন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে যেভাবে কঠোর নজরদারি চলছে তা পূর্ব বিভাগেও চালু থাকলে বাঘ নিরাপদ থাকবে বলেও জানান তিনি।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহম্মদ রেজাইল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনে চোরাশিকারীদের দৌরাত্ম্য কমে যাওযায় সর্বশেষ জরিপে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই বাঘের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ অবাধ চলাচলের জন্য গোটা সুন্দরবনের আয়তনের ২৩ ভাগ থেকে ৫১ ভাগ এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়াতে তাদের বিচরণ ও প্রজনন নিবিঘ্ন করতে ১ জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমের ৩ মাস পর্যটকসহ সব ধরনের বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবন পাহারায় স্মার্ট প্রে ট্রোলিং টিম কাজ করছে। এতে করে সুন্দরবনে প্রজনন, বংশ বৃদ্ধিসহ বাঘ অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ