পাহাড়ি হাতির ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। অর্থাৎ জন্ম হয়েছে বাচ্চা হাতির। এ খুশিতে হাসছে পাহাড়বাসি। বয়স মাত্র ৫ দিন। স্বাস্থ্যবান ছোট বাচ্চা হাতিটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি আদরমাখা মুখ। এ বাচ্চা হাতির নিরাপত্তায় রয়েছে আরও ১৪টি হাতি। সাথে আছে মা-বাবাও।
সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চা হাতির খবরে মিষ্টিমুখর বন কর্মকর্তারাও। দূর থেকে হাতির বাচ্চাটি এক নজর দেখতে জঙ্গলে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, ছুটে গেছেন রাঙামাটি কাপ্তাই বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তাও।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারী রাতে রাঙামাটি কাপ্তাই উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় জন্ম হয় বাচ্চা হাতিটির। ওই এলাকায় ১৪টি হাতির পালের সাথে একটি বাচ্চা হাতি গুঁটি গুঁটি পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন জঙ্গলে। দেখতে বেশ মোটা তাজা। চকচকে শরীর। ছোট দু’কান আর একটি সুঁড়। হঠাৎ চোখ পড়লে মনে হবে নবজাতক একটি শিশু। সবেমাত্র জন্ম। এরই মধ্যে বাচ্চাকে বন জঙ্গলের নিয়মনীতি শেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছে মা হাতি ও তার সঙ্গীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে কাপ্তাই উপজেলা। এ উপজেলার প্রায় ১৩ হাজার ৪৯৮ একর জায়গা জুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে আছে প্রায় ৪২টি হাতি। তাও আবার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে। ১২টি আছে কাপ্তাই আগর বাগান এলাকায়। ১৪টি আছে ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায়। আর ১২টি আছে সিতা পাহাড় এলাকায়। সব মিলে ৪২টি হাতি রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩টি বাচ্চা হাতি।
এ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতির প্রজনন ভালো। তার চেয়ে ভালো বংশবিস্তার করেছে বিভিন্ন রকম বানর, পশু আর পাখি। এখানে প্রায় ২০০ ধনেশ পাখিও আছে। কাপ্তাই উপজেলা এক কথায় বলা যায় পশু পাখিদের নিরাপদ স্থান। আশপাশে বনজঙ্গলে বসবাস করে বন্যহাতির দল। খাবারের সন্ধানে প্রায় সময় সড়কে বের হয়ে আসে। তখন তাণ্ডব চালায়। রাতদিন বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় হাতির দল। তাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে কাপ্তাই বনবিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের রাঙামাটি কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, আমরা বাচ্চা হাতিটি দেখে এসেছি। সুস্থ সবল আছে। যেখানে সারা দেশে নানাভাবে হাতির মৃত্যু হচ্ছে, সেখানে রাঙামাটি কাপ্তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বন্যহাতির সুস্থ প্রজনন হচ্ছে। এটা সত্যিই খুশির খবর। আমরা চেষ্টা করি হাতিগুলো যাতে ভালো থাকে।
তিনি আরও বলেন, যে রাতে হাতির বাচ্চার জন্ম হচ্ছিল সেদিন আমরা খুব ভয়ে ছিলাম। কারণ জঙ্গলের সব হাতি একসাথে চিৎকার করছিল। তাই খুব ভোর বেলা অর্থাৎ আলো ফোটার আগে আমরা পাহাড়ে গিয়ে দেখি একটা বাচ্চা হাতিকে ঘিরে আছে সব বন্যহাতি। তখন আমদের বুঝার বাকি ছিল না যে নতুন অতিথি এসেছে বন্যহাতির ঘরে। দূর থেকে আমরা ছবি ধারণ করি। ড্রোন দিয়ে হাতির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। বাচ্চা হাতি ও মা হাতি দু’জনে সুস্থ আছে।























