রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তাদের গালিগালাজ, মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক প্রকল্প পরিচালক।
বুধবার দুপুরে ১০-১২ জনের একটি দল নিয়ে আলমগীর কবির অধিদপ্তরের বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে এই তাণ্ডব চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
ঢাকা অঞ্চলের ‘কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার তার লিখিত অভিযোগে জানান, বুধবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে একদল যুবক তার দপ্তরের ৭১৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা ভেতরে ঢুকেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার সহকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একই দিনে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহর কক্ষে থাকাকালীন আলমগীর কবির তাকে জোর করে বাইরে ডেকে নিয়ে যান।
ড. মাহফুজুর বলেন, “আলমগীর কবির আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি হুমকি দেন। এর আগেও তিনি ২ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। আমি তাকে বলেছি—আমার কাছে টাকা নেই, দরকার হলে কিডনি বিক্রি করে টাকা দেব। সরকারি দপ্তরে এসে এভাবে নিয়মিত হুমকি ও চাঁদা দাবিতে আমরা আতঙ্কিত।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এগ্রিকালচারিষ্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একজন শীর্ষ নেতার অনুসারী এই আলমগীর। এই ঘটনার নেপথ্যে ঐ নেতার ইন্ধন আছে । তার দাবি, এই কেচো নিয়ে তদন্ত করলে খামারবাড়িতে সেই নেতারও অপকর্ম সাপ হিসেবে বের হয়ে আসবে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলমগীরের বক্তব্য
তবে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির। তিনি বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ ও ‘ইয়ার্কি’ বলে দাবি করেছেন। আলমগীর বলেন, “ড. মাহফুজের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। আমি তার সঙ্গে হাসিখুশিভাবে ইয়ার্কি করেছি মাত্র। আর পরিচালক (প্রশাসন)-এর কক্ষে শুধু সালাম দিতে গিয়েছিলাম।”
প্রকল্প পরিচালক ড. কাইয়ূমের বিষয়ে তিনি বলেন, “তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। আউটসোর্সিংয়ের কাজে আমাদের দলের কিছু লোককে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কোনো সাড়া দেননি।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অবস্থান
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম জানান, ঘটনার সময় তিনি মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে ছিলেন। তবে বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার অসদাচরণের খবর শুনেছি। বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে বিস্তারিত শুনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব।”
অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তারা বলছেন, দিনের আলোতে দপ্তরে ঢুকে কর্মকর্তাদের ওপর এমন চড়াও হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।























