হবিগঞ্জের মাধবপুরে সরকারি ভর্তুকিতে গভীর নলকূপের বিদ্যুৎ বিল কমলেও সেই সুবিধা পাচ্ছেন না প্রান্তিক কৃষক। এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে।
মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নলকূপ মালিকরা কম দামে বিদ্যুৎ পেলেও সেচের পানির জন্য কৃষকদের প্রতি বিঘায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই।
উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সরকার নলকূপে বিদ্যুতের বিল কম রাখছে কৃষকের সুবিধার জন্য। কিন্তু তারা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রতি বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে গেলে সেচ বাবদ দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা গুনতে হয়। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে এক বিঘায় মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা। সেচের খরচই সেখানে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, সেচের নির্ধারিত কোনো লিখিত হার নেই; মৌসুম ও এলাকার ভিত্তিতে ইচ্ছেমতো টাকা নেওয়া হয়। গভীর নলকূপ মালিকরা ভর্তুকি সুবিধা পেয়ে বিদ্যুৎ বিল তুলনামূলক কম পরিশোধ করেন। কিন্তু সেই সাশ্রয়ের অংশ কৃষকদের মধ্যে প্রতিফলিত হয় না। বুল্লা ইউনিয়নের একাধিক কৃষকের দাবি, সেচমূল্যের একটি নির্ধারিত নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার। পাশাপাশি ভর্তুকির সুবিধা যেন প্রকৃত চাষিদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য তদারকি জোরদার করা উচিত। মাঠ পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন টেকসই হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, সরকার সেচে ভর্তুকি দিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে। তবে গভীর নলকূপ পরিচালনা ও সেচমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি স্থানীয় ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে। কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























