ঢাকা   মঙ্গলবার
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২, ১৫ শা'বান ১৪৪৭

মাচায় কম খরচে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষে লাভবান কৃষক

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৬, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৭, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মাচায় কম খরচে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষে লাভবান কৃষক

মাচা পদ্ধতিতে তুলনামূলক শ্রম ও ব্যয় কম হওয়ায় গ্রীন জাতের লাউ চাষে বেশি ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় লাভবান কৃষক। কীটনাশক প্রয়োগ না করে লাউয়ের চাষ করায় উৎপাদিত লাউয়ের চাহিদা এখন দেশজুড়ে। বিষমুক্ত খাদ্যশষ্য উৎপাদনে মাটি ও পরিবেশ রক্ষার্থে জৈব সার ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্যের সাথে সাড়া ফেলেছেন কৃষক। 

নিরাপদ ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে দিনাজপুরের খানসামায় সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন বাশুলী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে বেশি লাভ পাওয়ায় তাঁর এই উদ্যোগ এলাকায় অন্য কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে বাসুলী গ্রামে দেখা যায়, লতানো সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ লাউ ক্ষেত। মাচা জুড়ে ঝুলছে ডজন ডজন লাউ। খেত থেকেই ফসল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকরা। পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করায় বাজারজাত নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তাও অনেকটাই কমেছে। চাষের ক্ষেত্রে ফেরোমন ট্র্যাপ, হলুদ আঠালো ফাঁদসহ বিভিন্ন জৈব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কৃষক। ফলে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ কমেছে এবং উৎপাদিত লাউয়ের মান ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেড়েছে।

কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তিনি মোট ১০০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২০ শতক জমিতে কৃষি বিভাগের সহায়তা পেয়েছেন। বীজ, মাচা তৈরি, জৈব সার, শ্রমিক ও নিয়মিত পরিচর্যা বাবদ তাঁর ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। লাউ রোপণের দুই থেকে আড়াই মাস পর ফসল সংগ্রহ শুরু করে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। জমিতে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ লাউ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও আনুমানিক ২ থেকে ৩ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। সুপার গ্রিন জাতের লাউয়ের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও নিরাপদ পদ্ধতিতে লাউ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, অল্প খরচ ও পরিশ্রমে যদি এত লাভ হয়, তাহলে লাউ চাষ অবশ্যই লাভজনক। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমরাও এই জাতের লাউ চাষ করব।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিভাগ নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন দিনাজপুর অঞ্চল টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)–এর অংশ হিসেবে খানসামায় নিরাপদ ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। 

সর্বশেষ