ঢাকা   বুধবার
০৬ মে ২০২৬
২২ বৈশাখ ১৪৩৩, ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪৭

ইউটিউব দেখে কুল চাষে ভাগ্য বদল করেছেন মকবুল

Argi24

প্রকাশিত: ০৮:৩৭, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ইউটিউব দেখে কুল চাষে ভাগ্য বদল করেছেন মকবুল

বিদেশে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন কেরানীগঞ্জের মকবুল হোসেন। কিন্তু অর্থসংকট ও পারিবারিক নানা বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। হতাশ না হয়ে তিনি ইউটিউবকে হাতিয়ার করে দেশেই আধুনিক কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন।

মকবুল হোসেনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার রাজাবাড়ির বটতলী গ্রামের প্রায় তিন বিঘা জমিজুড়ে গড়ে উঠেছে বিদেশি জাতের কুল বাগান। সরেজমিনে দেখা যায়, ৩–৪ ফুট লম্বা প্রতিটি কুল গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল-সবুজ রঙের বাহারি কুল। ফলের ভারে ডালপালা নুয়ে পড়েছে। শীতের রোদে চকচক করছে আপেলের মতো দেখতে “সুন্দরী” এবং “ভারত সুন্দরী” জাতের কুল।

পোকা ও পাখির আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পুরো বাগান ঘিরে দেওয়া হয়েছে জালের বেড়া। বিষমুক্তভাবে চাষ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এই কুলের চাহিদা ব্যাপক। সাধারণ কুলের তুলনায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

মকবুল হোসেন জানান, কয়েক বছর আগে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও তা আর সম্ভব হয়নি। পরে ইউটিউবের বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক চ্যানেল দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে কুল চাষের ধারণা পান। এরপর নিজ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কুল চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে নানা সমস্যায় পড়লেও ইউটিউব থেকে রোগবালাই দমন, সার ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার কৌশল শিখে সাফল্য অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, গত বছর প্রায় ১২ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছি। এবারও ভালো ফলনের আশা করছি। প্রতি বিঘায় খরচ ৩৫–৫০ হাজার হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় প্রতি বিঘা সাড়ে তিন লাখ টাকার বিক্রি সম্ভব।

কুল বাগান দেখতে আসা ইয়াকুব আলী বলেন, আমার মতো আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ এই বাগান দেখতে আসেন। মকবুল ভাই কুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার বাগান দেখে আমিও আমার জমিতে এই জাতের কুল চাষের পরিকল্পনা করছি।

স্থানীয়রা জানান, মকবুলের সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। দিন দিন এই অঞ্চলে কুলের আবাদ বাড়ছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন বলেন, মকবুল হোসেনের কুল চাষ এলাকার অন্যান্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করছে। এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বিদেশি জাতের কুল চাষের জন্য উপযোগী। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও আগ্রহ থাকলে দেশেই থেকে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব, এবং মকবুল তার বাস্তব উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, বেকার ও শিক্ষিত যুবকরা কুল চাষে এগিয়ে এলে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও বৃদ্ধি পাবে।