পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছে একটি ইরাবতী ডলফিন। গতকাল শুক্রবার সকালে সৈকতের পশ্চিম পাশের স্বপ্নরাজ্য পার্ক এলাকায় ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য সোলাইমান বিশ্বাস। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন।
ডলফিনের শরীরে সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চামড়ার রং অনেকটা বদলে যাওয়ায় দু-এক দিন আগে এর মৃত্যু হয়েছে ধারণা পরিবেশবাদীদের। প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান, ডলফিনটির শরীরের কয়েকটি জায়গা থেকে চামড়া উঠে গেছে। এটির পেটেও ফাটল ধরেছে। ডলফিনটি দেখতে পর্যটকসহ স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) ডলফিন রক্ষা কমিটি ও কুয়াকাটা পৌরসভার সমন্বয়ে পরে ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়। উপরার যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ডলফিনটি তীরে ভেসে এসেছে। শরীরের চামড়া পুরোপুরি উঠে গেলে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। এটি মূলত দাঁতাল প্রজাতির ইরাবতী ডলফিন, যা উত্তর ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাদু পানিতে পি. গাঙ্গেটিকা উপপ্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কুয়াকাটায় জেলে ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ডলফিন সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেছি আমরা। ফলে মানুষ এখন অনেকটা সচেতন।’
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর চর-গঙ্গামতি কাঁকড়াচর এলাকায় ও ২০ সেপ্টেম্বর চর-গঙ্গামতি এলাকার ‘৩৩ কানি’ নামক স্থানে মৃত ডলফিন ভেসে আসে। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি ও ২০২৫ সালে ১১টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে।
কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘আমরা উপকূলজুড়ে ডলফিন রক্ষায় কাজ করছি। চলতি বছরে কুয়াকাটায় এখন পর্যন্ত একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেছি, যেন এসব ডলফিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান























