ঢাকা   শনিবার
২৩ মে ২০২৬
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

নতুন ধরনের মাছের খাবার ‘বায়ো ফিস ফিড’ খরচ কমবে অর্ধেক

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:৫০, ২৬ মে ২০২৫

নতুন ধরনের মাছের খাবার ‘বায়ো ফিস ফিড’ খরচ কমবে অর্ধেক

নাটোরে পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি হয়েছে একটি নতুন ধরনের মাছের খাবার — ‘বায়ো ফিস ফিড’, যা পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্য নিরাপদ এবং প্রচলিত ফিডের তুলনায় প্রায় অর্ধেক খরচে ব্যবহারযোগ্য। জীববিজ্ঞানী ড. জিএনএম ইলিয়াস উদ্ভাবিত এই ফিড ইতোমধ্যেই খামারিদের মাঝে আশাব্যঞ্জক সাড়া ফেলেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, এই ফিডে ব্যবহৃত হয় খামারে উৎপাদিত প্রোটিন সমৃদ্ধ ব্ল্যাক সোলজার লার্ভা, চিনিকলের চিটাগুড়, সরিষার খৈল এবং ল্যাবে প্রস্তুত ছত্রাক ট্রাইকোডার্মা। এই উপাদানগুলো প্রাকৃতিকভাবে পানিতে প্ল্যাংকটন উৎপাদন বাড়িয়ে তোলে, যা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে কাজ করে।

ড. ইলিয়াস বলেন, “সবজিভিত্তিক পুষ্টিতে পোকার বৃদ্ধি ঘটিয়ে আমরা এমনভাবে খাদ্য চক্র তৈরি করেছি, যেখানে মৃত লার্ভা ও ডিম প্রোটিন ও ভিটামিনে পরিপূর্ণ ফিডে রূপ নেয়। এটি মাছের জন্য যেমন কার্যকর, তেমনি হাঁসের খাবার হিসেবেও উপযোগী।”

এটি নবায়নযোগ্য এবং একাধিক ধাপে প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য উপাদান তৈরি করে, ফলে পানি দূষণের ঝুঁকি থাকে না।

স্থানীয় খামারি শফিউল হক এই ফিডকে “খরচ সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মৎস্যচাষি মেহেদী হাসান জানান, “নিজের পুকুরে বায়ো ফিড ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছি, এখন বাণিজ্যিক উৎপাদনই সবচেয়ে জরুরি।”

এছাড়া, ড. ইলিয়াস তাঁর মালয়েশিয়ায় পরিচালিত গবেষণার অংশ হিসেবে দেশে নিয়ে আসেন ছত্রাক ট্রাইকোডার্মা। এই উপাদান আলু ও পেঁয়াজ চাষে ব্যবহারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর মতে, বর্তমানে চীন বাংলাদেশ থেকে পোল্ট্রির লিটার আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও দেশেই তা ব্যবহার করে বায়ো সার তৈরি করা উচিত, যা জমির উর্বরতা বাড়াবে, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের আশা, এই বায়ো ফিস ফিড ও বায়ো সার যদি যথাযথভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি ও মৎস্য খাতে একটি টেকসই বিপ্লব ঘটতে পারে।