শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরাতন গবেষণা মাঠ (যা বর্তমানে বাণিজ্য মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত) পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিশাল সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠটি ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবুল হাসান বলেন, “মানুষ যেমন তার পৈতৃক সম্পত্তি কোনোভাবেই ছাড় দেয় না, আমরাও আমাদের এই গবেষণার জমি কোনোভাবেই হাতছাড়া হতে দেব না। এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই।”
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে সরকারি কাজের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে এই জমি নিয়েছিল। বর্তমানে এই জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা গবেষণার বৃহত্তর স্বার্থে এটি অবিলম্বে ফেরত চাই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক বলেন, “জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ। সরকারের ভেতর থাকা স্বার্থান্বেষী কোনো মহল যদি বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।”
মাঠটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান প্ল্যানিং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়ার্কস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. সরোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “এই মাঠের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এখানে গবেষণার প্লট ছাড়াও আধুনিক ক্রপ মিউজিয়াম, খেলার মাঠ, মসজিদ এবং নিরাপত্তায় পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থা থাকবে।”
আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, একসময় ২৯৮ একর জমি শেকৃবির দখলে থাকলেও বর্তমানে তা কমে মাত্র ৮৭ একরে দাঁড়িয়েছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণার পরিধি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, “আমরা প্রশাসনিক এবং রাজপথ—উভয় দিক থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাব। নির্বাচিত সরকার অবশ্যই কৃষিবান্ধব হবে এবং আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে নেবে বলে প্রত্যাশা করি।”
সমাপনী বক্তব্যে মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাউদ্দিন আহমেদ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “১৯৮৬ সাল থেকে আমরা এই মাঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হিসেবে দেখে আসছি। আজ শেকৃবি এক বিশাল পরিবার। ৭ হাজার শিক্ষার্থী আর ২০ হাজার অ্যালামনাইয়ের নাড়ির টান এই মাটির সাথে। ডিসি অফিসের প্রতিনিধিকে আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, আমার সাথে নয়, কথা বলতে হলে হাজারো শিক্ষার্থীর সাথে বলতে হবে। একজন মা যেমন তার সন্তানকে আগলে রাখেন, আমরাও আমাদের এই মাঠকে সেভাবে আগলে রাখবো।”
সমাবেশ চলাকালীন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাঠের ভেতরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের লাগানো বিভিন্ন ব্যানার ও বেষ্টনী অপসারণ করেন। দিনভর এই কর্মসূচিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে দ্রুততম সময়ে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।























