ঢাকা   শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬
৩১ চৈত্র ১৪৩৩, ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৭

চৌমুহনীর অস্থায়ী ‘চার মাসের বাজারে’ বিক্রি হয় ৭০ কোটি টাকার আখ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:২৩, ৯ নভেম্বর ২০২৫

চৌমুহনীর অস্থায়ী ‘চার মাসের বাজারে’ বিক্রি হয় ৭০ কোটি টাকার আখ

বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর অস্থায়ী ‘চার মাসের বাজারে’ বিক্রি হয় ৭০ কোটি টাকার আখ। এই বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হয় ৫০-৬০ লাখ টাকার আখ। তবে নোয়াখালীতে তেমন আখ চাষ হয় না। এসব আসে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর থেকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০ আঁটি আখ বিক্রি হয়। প্রতি আঁটিতে থাকে ২৫টি। সে হিসাবে দৈনিক ৫০ হাজার পিস আখ বিক্রি হয়। বাজারে ৩০ জন শ্রমিক প্রতিদিন আখ বোঝাই ও খালাসের কাজ করেন। এখান থেকে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থানে আখ সরবরাহ করা হয়।

আড়তদার মো. সুমন মিয়া ও আজাদ মিয়া বলেন, ‘খুচরা বাজারে প্রতিটি আখ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। দৈনিক গড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার আখ বিক্রি হয়, মাসে প্রায় ১৫-১৮ কোটি ও চার মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকার বিক্রি হয়।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ আখ ক্ষেতে বেশ পছন্দ করেন। অনেকে আখ চিবিয়ে খান। আবার মেশিনের মাধ্যমে রস বের করে বিক্রি হয়। তবে নোয়াখালী অঞ্চলের লবণাক্ত মাটিতে আখ চাষ কম হয়। এখানকার চাহিদা মেটায় মূলত চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ এলাকার আখ। শ্রাবণ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত (চার মাস) চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে এই অস্থায়ী বাজারে কেনাবেচা হয় আখ।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার আখচাষি মো. বিল্লাল হোসেন (৬২) বলেন, ‘আমি ৩০ বছর ধরে আখ চাষ করছি। গত বছর এক কানি জমিতে আখ চাষ করে ৬ লাখ টাকার আখ বিক্রি করেছি। এবার ফলন ভালো হয়েছে। আমার আখ পাইকারি কেনেন চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ীরা।’ আরেক চাষি মো. আব্দুর রহমান খাঁ (৫৬) বলেন, ‘প্রতিবছর আখ চাষে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ হয় আমার।’

ব্যবসায়ী মো. এরশাদ ব্যাপারী (৭০) বলেন, ‘ফরিদগঞ্জের আখ খেতে অনেক মিষ্টি হওয়ায় নোয়াখালী অঞ্চলে এর চাহিদা বেশি। লবণাক্ত মাটির কারণে নোয়াখালীর আখ তেমন মিষ্টি হয় না।’ আখবাজারের শ্রমিক সর্দার মো. মাঈনউদ্দিন (৪০) বলেন, ‘প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর থেকে আখবোঝাই ট্রাক আসে। প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার পিস আখ আসে বাজারে।’

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হরুন অর রাশিদ বলেন, ‘আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় নোয়াখালী অঞ্চলে এর চাষ সীমিত। চলতি বছর সুবর্ণচরে ২০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এখানে আখ থেকে গুড় তৈরির ব্যবস্থা না থাকায় বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারে চাষ হয় না।’