ঢাকা   শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬
৩১ চৈত্র ১৪৩৩, ২৮ জ্বিলকদ ১৪৪৭

সড়কে আলু ফেলে কৃষকদের মানববন্ধন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ৩১ জুলাই ২০২৫

সড়কে আলু ফেলে কৃষকদের মানববন্ধন

ধান-গমের মতো আলুরও সরকার নির্ধারিত মূল্য ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন নওগাঁ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। বুধবার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আলু চাষিরা রাস্তার ওপর আলু ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শতাধিক কৃষক অংশ নেন।

কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে বাজারে আলুর দাম উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম। এতে প্রতি কেজিতে ১৭-১৮ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা সেই ঋণও শোধ করতে পারছেন না।

নওগাঁ সদর উপজেলার চকবাড়িয়া গ্রামের কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, এ বছরের শুরু থেকেই সারের দাম বেশি। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর খুবই কম। ধান-চালের মতো আলুরও সরকারি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

বক্তারপুর গ্রামের কৃষক ইয়াসিন আলী বলেন, ধান ও চালের বাজারদর বাড়লেও আলুর কোনো দাম নেই। হিমাগারেও অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এক মণ আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১২০০-১৩০০ টাকা, অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। এতে কৃষক বাঁচবে কীভাবে?

শহরের বালুডাঙ্গা এলাকার চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, গরু বিক্রি করে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলাম। এখন হিমাগারে রাখতে প্রতি কেজিতে খরচ হচ্ছে ২৫-২৬ টাকা। কিন্তু বাজারে পাইকারি দর ১১-১২ টাকার বেশি না। ঋণ শোধ তো দূরের কথা, খরচই উঠে আসছে না।

এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কর্মকর্তা সোহাগ সরকার বলেন, চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে অন্যান্য সবজির সরবরাহ থাকায় আলুর চাহিদা কম। সরকার ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রির চিন্তাভাবনা করছে।

কৃষকরা দ্রুত আলুর সরকার নির্ধারিত মূল্য ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।