ঢাকা   মঙ্গলবার
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০ মাঘ ১৪৩২, ১৫ শা'বান ১৪৪৭

মধুমতী বাঁওড়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার চলছে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৪০, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০৯:৪১, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

মধুমতী বাঁওড়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার চলছে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতী বাঁওড়ে বাঁশ পুঁতে কাঠা ফেলে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন প্রভাবশালীরা। এতে এলাকার দরিদ্র জেলেরা মাছ শিকারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু কাঠা দিয়েই নয়, ইলেকট্রিক শক দিয়েও গভীর রাতে মাছ শিকার করার ঘটনা ঘটছে। এতে বিভিন্ন ধরনের মাছ মরে পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে পানি দূষিত হচ্ছে। এ ছাড়া হাজারো অবৈধ চায়না দুয়ারি জালও রয়েছে বাঁওড়ে।

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম, ঘিদাহ, টিটা, টিটা পানাইল, ইকড়াইল ও শিকারপুর এলাকা নিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার আয়তনের বিশাল জলাশয় সৃষ্টি হয়; যা মধুমতী বাঁওড় নামে পরিচিত। টিটা গ্রামের বাঁওড়ের ওপর তৈরি হয়েছে নান্দনিক একটি ভাসমান সেতু।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁওড়ের মধ্যে অন্য এলাকার কিছু প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তি অবৈধভাবে বাঁশ পুঁতে কাঠা দিয়ে জলাশয় দখল করে রেখেছেন। তারা জেলে না। তাদের দাপটে এলাকার পেশাদার জেলেরা বাঁওড়ে জাল ফেলতে পারছেন না। এভাবে জলাশয় আটকে রাখায় ধ্বংস হচ্ছে দেশি মাছের অভয়াশ্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার নন্দীগ্রাম, ঘিদাহ, টিটা, টিটা পানাইল, ইকড়াইল ও শিকারপুর মধুমতি বাঁওড়ে দুই থেকে তিন শতাধিক স্পটে বাঁশ পুঁতে কাঠা ফেলে মাছ শিকার করা হচ্ছে।

টিটা গ্রামের মো. রিপন ও সাহেব শেখ বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে কাঠা দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এখন জানলাম এসব অবৈধ। আগামীতে আর কাঠা দেবেন না বলে জানান তারা।

স্থানীয় অনেকেই জানান, পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলা থেকে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বড় বড় কাঠা দিয়ে মাছ শিকার করেন। একটি কাঠায় জাল দিয়ে মাছ ধরতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে। সেখানে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ধরা পড়ে।

স্থানীয় জেলে লায়েক শেখ ও ইকু মিয়া জানান, তারা মধুমতী বাঁওড়ে জাল দিয়ে মাছ শিকার করে সংসার চালান। এখন বাঁওড়ে কাঠা দেওয়ায় মাছ ধরতে পারছেন না। তারা বলেন, শুনেছি বাঁওড়ে কারেন্টের শক দিয়ে মাছ মারছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পেশা ছেড়ে দিতে হবে। আমরা চাই প্রাশসন এটা বন্ধ করে দিক। তাহলে আমাদের মতো এখানে অনেক জেলে আছে, তারা মাছ শিকার করে ভালোভাবে সংসার চালাতে পারবে।

জেলেদের কথার সূত্র ধরে জানা যায়, বাঁওড়ে কিছু ব্যক্তি ইলেকট্রিক শক দিয়েও মাছ শিকার করছেন। বিদ্যুতায়িত তার পানিতে ফেলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচ-সাত ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা মাছগুলো ভেসে ওঠে। এ পদ্ধতিতে মাছ শিকারে সাপ-ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা পড়ে। যেগুলো পড়ে থেকে পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও পানি দূষিত করে।

ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকার করার অভিযোগ থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত না। প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে একবার অভিযান পরিচালনা করে কিছুই পায়নি। তাঁর ছোট্ট একটি কাঠা রয়েছে মধুমতি বাঁওড়ে।

এ বিষয়ে টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে কাঠা অপসারণ করার জন্য গ্রামপুলিশের মাধ্যমে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে নোটিশ দেওয়া হবে। যদি অপসারণ না করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু বলেন, দেশি প্রজাতির মাছ সংরক্ষণের জন্য মধুমতী বাঁওড়ের কয়েকটি স্থানকে মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ বাঁশ পুঁতে কাঠা ফেলে দখলে রেখে মাছ শিকার করতে পারবে না। তিনি আরও জানান, ইলেকট্রিক শক দিয়ে গভীর রাতে মাছ শিকারের কথা 
শুনেছি। আমরা প্রশাসনের লোকজন নিয়ে অভিযান চালিয়েও অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। আলফাডাঙ্গার ইউএনও রিফাত নূর মৌসুমি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে কাঠা অপসারণ করা হবে।