ঢাকা   শনিবার
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৬ শা'বান ১৪৪৭

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

পৌষের হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু খাঁচাবন্দি পশু-প্রাণী

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:১৬, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

পৌষের হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু খাঁচাবন্দি পশু-প্রাণী

চট্টগ্রামে জেঁকে বসেছে শীত। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। এর মধ্যে প্রতিনিয়ত কমছে তাপমাত্রা, বাড়ছে ঠান্ডা বাতাস। বেশির ভাগ সময় থাকছে কুয়াশা। সন্ধ্যা হতে না হতেই ঠান্ডা বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। পৌষের এমন কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি জবুথবু হয়ে পড়েছে চিড়িয়াখানার খাঁচাবন্দি পশু-প্রাণীরাও। 

জলহস্তি ও কুমির তাদের প্রিয় পানিতে থাকছে না, উষ্ণতার খোঁজে রোদে এসে বসছে। ঝিমিয়ে পড়েছে বাঘ, সিংহ, বানরসহ বেশির ভাগ প্রাণী। নেই তাদের স্বাভাবিক সময়ের হুংকার কিংবা দৌড়ঝাঁপ। এভাবেই অনেকটা প্রাণহীনভাবে সময় কাটছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ৬৫ প্রজাতির পাঁচ শতাধিক পশু-প্রাণীর।

ঠান্ডা থেকে কিছুটা উষ্ণতা দিতে খাঁচার ভেতরে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি খড় ও চটের বস্তা। স্বাস্থ্যগত সমস্যা তদারকিতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আগুন জ্বালিয়েও ঠান্ডা দূর করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, পৌষের হাড় কাপানো ঠান্ডায় ভালো নেই খাঁচাবন্দি পশু-প্রাণীরাও। ঠান্ডা থেকে তাদের রক্ষা করতে খাঁচার ভেতর বাড়তি খড় ও চটের বস্তা দেওয়া হচ্ছে। শীত থেকে উষ্ণতা পেতে পশু-প্রাণীরা পাশাপাশি বসে ও একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে বেশির ভাগ সময় পার করছে। তাদের ওপর বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। কারও কোনো শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বসির আহম্মেদ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত কমছে। এর সঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। এতে তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।  ঘন কুয়াশা থাকছে বেশির ভাগ সময়। কুয়াশার কারণে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীতের এমন প্রভাব থাকবে জানুয়ারি মাসজুড়েই।’

স্বাভাবিক সময়ে চিড়িয়াখানার প্রবেশ করে সামান্য কয়েক পা ফেলতেই চোখে পড়ত বানরের লাফালাফি, দৌড়াদড়ি এবং একে-অপরের সঙ্গে খুনসুটি করার দৃশ্য। তবে তীব্র শীতে বানরের এখন সময় কাটছে অনেকটা নীরবভাবে। ঠান্ডা থেকে কিছুটা উষ্ণতা পেতে বানরদের একে-অপরের শরীর ঘেঁষে বসে থাকতে দেখা গেছে। আর পানির চৌবাচ্চায় সারাক্ষণ ডুবে থাকত বিশালাকার জলহস্তি। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে সেই দৃশ্যও চোখে পড়েনি। ঠান্ডার তীব্রতা এতই বেশি, দিন ও রাতে বেশির ভাগ সময় পানির স্পর্শ ছাড়াই থাকছে জলহস্তিটি। একই অবস্থা দেখা গেছে কুমিরের ক্ষেত্রেও। প্রবেশ পথের মধ্যভাগে খাঁচায় দেখা যেত বাঘ ও সিংহকে রাজার মতোই ঘুরে ঘুরে হুংকার দিতে। তবে ঠান্ডার কারণে তাদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 
পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসা খুলশী এলাকার বাসিন্দা কানিজ ইসলাম বলেন, ‘বনের রাজা বাঘ-সিংহ, জলহস্তি, কুমির, বানরসহ পশু-প্রাণীদের দেখতে দুই সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্য নিয়ে এসেছি। তবে তীব্র শীত ও ঠান্ডায় মানুষের মতো কাবু হয়ে গেছে পশু-প্রাণীরাও। যে কারণে সন্তানরা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও বাঘ-সিংহের হুংকার, ছোটাছুটি দেখতে পায়নি।’

নগরের ফয়’স লেকে পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ১০ একর জায়গায় নির্মিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দেশি-বিদেশি ৬৫ প্রজাতির পাঁচ শতাধিক পশু-প্রাণী রয়েছে।

সর্বশেষ