ঢাকা   সোমবার
০৫ জানুয়ারি ২০২৬
২১ পৌষ ১৪৩২, ১৬ রজব ১৪৪৭

বন কর্মকর্তাদের হাত করে 

প্যারাবনের পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে চিংড়ির ঘের

Argi24

প্রকাশিত: ০৯:১২, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

প্যারাবনের পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে চিংড়ির ঘের

কক্সবাজার শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে প্যারাবন কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। ইতোমধ্যে প্যারাবনের অন্তত পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে প্রায় ২০ একর জমি দখল করা হয়েছে। স্থানীয় সংঘবদ্ধ চক্র গত তিন দিন ধরে পরিবেশ বিধ্বংসী এ কাজ করলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বন ধ্বংসের এ কাজটি করা হচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্যারাবন বা ম্যানগ্রোভ বনের গুরুত্ব অপরিসীম; এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন–ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে, ভূমিক্ষয় রোধ করে এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এটি উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা কমিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সহায়তা করে।

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে বাইন ও কেওড়া গাছ সমৃদ্ধ প্যারাবন। বনের প্রায় ২০ একর জায়গা দখল করে চতুর্পাশে সীমানা বাঁধ দেওয়া হয়েছে। দখলকৃত জায়গায় থাকা প্যারাবনের অন্তত পাঁচ হাজার বাইন ও কেওড়া গাছ কাটা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য গত রোববার থেকে গাছ কাটা এবং সরকারি এ জমি দখলের কাজ চলছে। স্থানীয় শাহজাহান, আবুল কাশেম ও মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি ভূমিদস্যু চক্র এ কাজটি করছে। গাছ কাটার খবর পেয়ে রোববার উপকূলীয় বন বিভাগের পোকখালী বিট কর্মকর্তা মৃনাল ভাওয়াল পরিদর্শন করেন। পরে ভূমিদস্যু চক্রটি বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে। ফলে চার দিনেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ শাহজাহান সমকালকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। এমনকি, আমার কোনো চিংড়ি ঘের কিংবা লবণ মাঠ নেই।’

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, চৌফলদন্ডী এলাকার প্যারাবন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে উপকূল ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের রক্ষা করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি যেভাবে চিংড়ি ঘের তৈরির জন্য এ বন ধ্বংস করা হচ্ছে, তা ভয়াবহ অশনিসংকেত। তাই এ ঘটনায় জড়িত বন কর্মকর্তাসহ সবার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, না হলে বন ধ্বংসে অন্যান্য লোকজনও আরও বেশি উৎসাহিত হবে।

পোকখালী বিট কর্মকর্তা মৃনাল ভাওয়াল সমকালকে বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু গাছ কাটার দৃশ্য দেখেছি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’ গাছগুলোর বয়স কত তা বলতে পারেননি তিনি।

গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, ‘বন কর্নকর্তাদের ম্যানেজ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বন বিভাগের পক্ষ থেকে চৌফলদন্ডী এলাকার গাছ কাটার স্থানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এর সত্যতাও পাওয়া গেছে। কিন্তু গাছ কাটায় জড়িতদের নাম না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে।’

এ বনের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) এম এ হাসান বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়টি আগে শুনিনি, এখন শোনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এসিএফকে বলে দিচ্ছি।’