চলনবিল অঞ্চলের এই দই মেলা নিয়ে রয়েছে নানা গল্প-কাহিনী। তাড়াশ উপজেলা সনাতন সংস্থার সভাপতি বাবু তপন কুমার গোস্বামী জানান, জমিদারি আমলে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈঞ্চব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রায় ৩০০ বছর আগে প্রথম রশিক রায় মন্দিরের মাঠে দই মেলার প্রচলন করেছিলেন।
এলাকায় এমনও জনশ্রুতি আছে যে, জমিদার রাজা রায় বাহাদুর দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। তাই জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করতেন। আর সে থেকেই জমিদার বাড়ির সামনে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী দই মেলার প্রচলন শুরু করেন। সেই থেকে প্রতিবছর শীত মৌসুমের মাঘ মাসে সরসতী পূজার দিন শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দই মেলা বসছে আসছে।
কথিত আছে, তৎকালীন সময়ে প্রতি বছর নিয়ম করে বছর মেলায় আগত সবচেয়ে ভালো সুস্বাদু দই তৈরিকারক ঘোষকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন দেওয়ার রেওয়াজও ছিল। যা জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর আর নেই।
এদিকে মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারণে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন- ক্ষীরসা দই, শাহী দই, চান্দাইকোনার, হান্ডিয়ালের দই, ধরইলের দই, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, ডায়াবেটিক দই, শ্রীপুরের দই এ রকম হরেক নামে ও দামের হেরফেরে ১২০ টাকা কেজি থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরের শত শত মণ দই বিক্রি হয়।
বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর, রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা, ঘুড়কা, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শ্রীপুরের, উল্লাপাড়ার ধরইলের দই, পাবনার চাটমোহরের হান্ডিয়ালের দই, ডায়াবেটিক দইসহ স্থানীয় তাড়াশের দই প্রচুর বেচাকেনা হচ্ছে।
উজ্জল ঘোষ, আনন্দ ঘোষ, জীবনঘোষসহ একাধিক ঘোষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিক খরচ, দইপাত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় দইয়ের দামও কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তবে মেলা দিনব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারণে এ বছর ও কোনো ঘোষের দই অবিক্রীত থাকবে না- এমনি আশা তাদের।























