ঢাকা   রোববার
১৮ জানুয়ারি ২০২৬
৪ মাঘ ১৪৩২, ২৮ রজব ১৪৪৭

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের বিরুদ্ধে যারা অবস্থা নিয়েছেন তারাই এখন দায়িত্বে

agri24.tv

প্রকাশিত: ১৭:৪৬, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

আপডেট: ১৮:০২, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের বিরুদ্ধে যারা অবস্থা নিয়েছেন তারাই এখন দায়িত্বে

৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলেও প্রকাশ্যে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্তরা এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ জানিয়েছেন। তারা অতিদ্রুত এসব শিক্ষকদের অপসারণ দাবি করছেন। একই সাথে দুর্নীতি রোধ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরাতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ পদে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে এবং হচ্ছে, তা দুদকের মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন। 

প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক পরিষদের সভাপতি একলিমুর রেজা কোরাইশ বলেন, সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার নিজের ইচ্ছেমতো নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন। শতকোটি টাকা লোপাট করেছেন। তার নিয়োগকৃত অধ্যক্ষ ও বিভিন্ন শাখা প্রধানরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান এডহক কমিটিকে ম্যানেজ করে তারা এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এ কারণে অভিভাবকেরা এডহক কমিটি নতুন করে গঠনের দাবি তুলেছেন।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, উচ্চ আদালের রায় থাকা সত্বেও কোর্টের আদেশ অমান্য করে গোপনে কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
একলিমুর রেজা কোরাইশ জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখলাক আহম্মদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধীতা করে গত ১৬ জুলাই অত্র প্রতিষ্ঠানের যে সকল শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করেছে, তাদেরকে রাতের অন্ধকারে কলেজ শাখার ছাত্র হোস্টেল থেকে বের করে দেয়। আর এতে সহায়তা করেন কলেজ শাখার শিফট ইনচার্জ আজিজুর রহমান ও রেহেনা সুলতানা ববি।  এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানালে এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। 

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলন করছিলো তখন আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী ও পুলিশ ছাত্রদের ধাওয়া দেয়। এ সব শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলেও আখলাক আহম্মেদের নির্দেশে সিনিয়র শিক্ষক রাশেদ কাঞ্চন, মো: মশিউর রহমান স্কুলের গেট বন্ধ করে দেয়। ফলে ছাত্ররা স্কুলে প্রবেশ করতে না পারে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী আহতও হয়।  

রফিকুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেছেন, ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ পতনের পর ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এসব শিক্ষকরা বহাল তবিয়তে থেকে আওয়ামীলীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এডহক কমিটির সদস্য নুরুল ইসলামকে জানালেও কর্নপাত করেননি। উল্টো অভিযোগ দেয়া অভিভাবকদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিভাবক সদস্য নুরুল ইসলামের মোবাইলে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

অভিভাবক মোজাম্মেল হোসেন জানান, সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থীদের মোনাজাত অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতির আসনে ছিলেন ছাত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখলাক আহম্মেদ। উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত রাশেদ কাঞ্চনও । এসময় শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান এবং তাদের অপসারণেরও দাবি জানানো হয়। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে অভিযুক্ত দুজন অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।   

এই অভিভাবক আরো জানান, হাই কোর্ট বিভাগ মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর অর্ফিসার নিয়োগ দেওয়ার  আদেশ রয়েছে। এই আদেশ পালন করলেই নিয়োগ দেয়ার সুযোগ রয়েছে।