ঢাকা   শনিবার
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
১০ মাঘ ১৪৩২, ০৫ শা'বান ১৪৪৭

শ্রমিক সংকটের শঙ্কায় ভোটের আগেই বোরো রোপণের ধুম

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:১৭, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

শ্রমিক সংকটের শঙ্কায় ভোটের আগেই বোরো রোপণের ধুম

রংপুর অঞ্চলে হাড়কাঁপানো শীত ও শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করেই বোরো ধান আবাদে মাঠে নেমেছেন কৃষক। তবে এবারের আবাদে আনন্দ নেই; আছে দুশ্চিন্তা। একদিকে নির্বাচনের প্রচারণার কারণে শ্রমিক সংকটের ভয়, অন্যদিকে ডিজেল ও কৃষি উপকরণের আকাশচুম্বী দাম। সব মিলিয়ে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ও উৎপাদন খরচ নিয়ে দিশেহারা উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষক।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের ডামাডোল শুরু হওয়ার আগেই কৃষকরা চারা রোপণের কাজ শেষ করতে চাইছেন। তাই তীব্র শীতসহ শত প্রতিকূল অবস্থাতেও বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। কেউ শুকনো জমিতে পানি দিয়ে চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করছেন; কেউ বা বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে চারা রোপণ শুরু করেছেন। 

পীরগাছার কৃষক আয়নাল মিয়া বলেন, ‘ভোটের প্রচার শুরু হইলে আর কামলা পাওয়া যাবার নয়। সেইবাদে আগেভাগে চারা গাড়ি (রোপণ করি) থোং।’ কৃষকদের আশঙ্কা, প্রচারণা শুরু হলে শ্রমিকরা মিছিলে চলে যাবে। তখন চারা রোপণ করতে দেরি হলে ফলন বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে ডিজেলের দাম বাড়ার দোহাই দিয়ে সেচযন্ত্রের মালিকরা পানির দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছেন। কাউনিয়ার কৃষক মণিমোহন জানান, আগে প্রতি ঘণ্টা সেচ ১২০-১৩০ টাকায় মিললেও এখন তা ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে আগের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। 

গঙ্গাচড়ার পীরেরহাট গ্রামের সাজু মিয়ার নিজের জমি নেই। প্রতিবছর তিন থেকে চার বিঘা জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেন। এ বছর ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে বেকায়দায় পড়েছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে নির্বাচন ঘিরে শ্রমিক সংকটের শঙ্কা। সাজু মিয়া বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে চারা নাগাচু। পানির দাম বাড়ার কথা শুনি বোরো আবাদের হাউস (শখ) মিটি গেইছে বাহে।’

নগরীর চব্বিশ হাজারী গ্রামের হাছান আলীসহ স্থানীয় সেচযন্ত্র মালিকরা বলছেন, লোকসান দিয়ে পানি দেওয়া সম্ভব নয়। দুই বছর আগেও যে ডিজেল ৬৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ১০২ টাকার ওপরে। এর সঙ্গে মবিল ও যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মিলিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২০০ টাকার নিচে সেচ দেওয়া অসম্ভব। বড় মেশিনগুলোতে ডিজেল বেশি লাগায় খরচ আরও বেশি পড়ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় (নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম) এ বছর ৫ লাখ ৯ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ মার্চ পর্যন্ত রোপণের সময় থাকলেও গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে চারা লাগানো শেষ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-রংপুরের আঞ্চলিক পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শীতের কারণে বীজতলা যাতে নষ্ট না হয়, আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তবে ডিজেলে দাম বাড়ায় গ্রামাঞ্চলে সেচের দাম বেশি নিলে উৎপাদন খরচ অবশ্যই বাড়বে। তারপরও কৃষকদের যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, তাতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’