ঢাকা   মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ পৌষ ১৪৩২, ২৪ রজব ১৪৪৭

ব্রহ্মপুত্র নদের উর্বর জমিতে বালুতে ঢেকেছে কৃষিজমি জীবিকার সংস্থান মহিষে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:২৮, ২৯ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ১০:৪১, ২৯ জুলাই ২০২৫

ব্রহ্মপুত্র নদের উর্বর জমিতে বালুতে ঢেকেছে কৃষিজমি জীবিকার সংস্থান মহিষে

এক সময় চরের মানুষের জীবিকা ছিল কৃষিনির্ভর। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী উর্বর জমিতে চাষ হতো নানা ধরনের শাক-সবজির আবাদ। সেসব বিক্রি করে চলত সংসার। অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনায় নদ খনন করে চরভূমিতে ফেলা হয় বালু। এতে সরকারি খাসজমির পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক জায়গায়ও ভরাট হয়ে যায়। অন্তত আট বছর ধরে এসব জমি অনাবাদি পড়ে আছে। 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের চররামমোহন ও উজানচর নওপাড়ায় এমন পরিস্থিতিতে মানুষের জীবিকার নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে মহিষ পালন। এতে বদলে যাচ্ছে তাদের জীবনধারা, ফিরছে সচ্ছলতা। চররামমোহন এলাকার বাসিন্দা মো. ইয়াকুব আলী এক একর জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। পরে একটি মহিষ কেনেন। এখন তাঁর খামারে এ প্রাণীর সংখ্যা চারটি। দুধ বিক্রি করে মাসে আয় হচ্ছে অন্তত ১০ হাজার টাকা। 

ইয়াকুব বলছিলেন, এলাকায় মহিষের দুধ ও মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গাভির দুধ লিটারপ্রতি ৬০-৭০ টাকা হলেও মহিষের দুধ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। পালনেও খরচ কম, লাভও বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজিবপুর ইউনিয়নের চররামমোহন মৌজায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা করায় ২০১৮ সাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু তুলে ভরাট করা হয় অন্তত ২০০ একরের বেশি জমি। মূল এলাকা চররামমোহনে হলেও, উজানচর নওপাড়া গ্রামেও অনেক জমি পড়ে এর আওতায়।

অনেক পরিবার এখন মহিষ পালন করছে। সারাদিন খোলা মাঠে চরে ঘাস খায় প্রাণীগুলো। বিকেলে দল বেঁধে নেওয়া হয় ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল বা পরিচর্যার জন্য। এ প্রাণীটিই হয়ে উঠেছে জীবিকার ভরসা।

উজানচর নওপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মোড়ল ব্রহ্মপুত্র নদে মহিষের পাল গোসল করাচ্ছিলেন। তিনি শুরুতে দুটি মহিষ কেনেন। এখন সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯টিতে। সাতটিই গর্ভবতী। এ প্রাণী পালন অনেক সহজ ও লাভজনক জানিয়ে তিনি বলেন, মহিষ সকালে চরে ছেড়ে দিলে সারাদিন নিজের মতো ঘাস খায়, সন্ধ্যায় নদে গোসল করে বাড়ি ফেরে। এক বছরের মধ্যে একটির বাচ্চা বিক্রি হয় লাখ টাকায়। 

চররামমোহন এলাকার বাসিন্দা মো. শাহীন মিয়া বাবার সাড়ে চার একর জমিতে বেগুন, মিষ্টিকুমড়াসহ মৌসুমি শাক-সবজির আবাদ করতেন। বালু ফেলার পর জমিগুলো অনাবাদি হয়ে গেছে। ভাবছিলেন অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। শুনেছেন প্রকল্পটি বাতিল। তিনি বলেন, ‘বিকল্প না পেয়ে মহিষ পালন শুরু করেছি।’
মহিষ পালনে প্রাণীজ আমিষের জোগানের পাশাপাশি পরিবারে সচ্ছলতা ফিরছে বলে জানান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘চরাঞ্চলের মাঠ, প্রাকৃতিক ঘাস ও নদীঘেঁষা পরিবেশ এ প্রাণী পালনের উপযোগী।’

সর্বশেষ