পাবনার সাঁথিয়া মৎস্য প্রজননকেন্দ্রে এক যুগ ধরে পোনা ও ডিম উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় চুরি হয়ে গেছে প্রজননকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজনের বিরুদ্ধে কেন্দ্র এলাকার গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্যজীবী ও উদ্যোক্তারা।
সাঁথিয়া উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাঁথিয়ার নন্দনপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে যৌথ ব্যবস্থাপনায় প্রজননকেন্দ্রটি গড়ে তোলে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রায় ৩৭ বিঘা জমিতে খনন করা হয় ১০টি পুকুর।
স্থাপন করা হয় পানি সরবরাহের পাঁচটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প, আধুনিক আলোকবাতি, হ্যাচারিসহ পোনা উৎপাদনের আধুনিক ব্যবস্থা। ১৯৯৫ সালে ইছামতী নদীর দুই পারের ছয়টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে পাঁচ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়। এরপর বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটি।
২০০৬ সালে মাছ চাষের জন্য উপজেলা মৎস্য উন্নয়ন সমবায় সমিতি বার্ষিক ২৫ হাজার টাকায় পাঁচ বছরের জন্য এটি ইজারা নেয়। এরপর থেকেই প্রজননকেন্দ্রের দুরবস্থা শুরু হয়। চুরি হতে থাকে প্রকল্প এলাকার মাটি, গাছ থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক বাতি পর্যন্ত। ২০১১ সালে ইজারার মেয়াদ শেষ হলেও তা আর নবায়ন করা হয়নি।
এক পর্যায়ে কেন্দ্রটি অবৈধ দখলে নিয়ে ব্যক্তিগত খামার গড়েন তৎকালীন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর ছেলে বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আসিফ শামস রঞ্জন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে দখল ফিরে পায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় প্রজননকেন্দ্র থেকে প্রতিবছর পাঁচ হাজার কেজি পোনা ও কমপক্ষে দুই হাজার কেজি রেণু উৎপাদন হলেও এখন তা সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। অবৈধ দখল আর দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় চুরি হয়ে গেছে সেচপাম্প, মূল্যবান বৃক্ষ, সীমানা প্রাচীরের কাঁটাতার, অর্ধশত ফ্লাডলাইটসহ বৈদ্যুতিক পোল। শুকিয়ে গেছে পুকুর, লুট হয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।
সরেজমিন নন্দনপুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ঘন ঝোপঝাড়ে ঢাকা এক ভূতুড়ে পরিবেশ। কোনো নিরাপত্তাকর্মী নেই। আশপাশের গ্রামের কয়েকজন গরুর জন্য ঘাস কাটছেন। তারা জানান, বেশ কয়েক বছর আগেই সংঘবদ্ধ চক্র রাতে এখান থেকে গাছ কেটে নেওয়াসহ পাম্পের যন্ত্রাংশ ও বাতি চুরি করে নিয়েছে।























