ঢাকা   মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ পৌষ ১৪৩২, ২৪ রজব ১৪৪৭

হাওরে অব্যাহত পোনা নিধন, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১২:৫৩, ২৯ জুলাই ২০২৫

হাওরে অব্যাহত পোনা নিধন, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চল আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলার হাওরে এখন বর্ষার পানি। যার কারণে হাওর এলাকার খালবিলে দেখা মিলছে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা। তবে একটি চক্রের কারণে এসব পোনা ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয়দের দাবি, একশ্রেণির অসাধু জেলে অবাধে সেই পোনা ধরে বাজারে বিক্রি করছেন প্রকাশ্যে। এ অবস্থায় পোনা রক্ষায় ওই জেলেদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা। তাদের মতে, পোনা মাছ এভাবে নিধন করা হলে অচিরেই দেশীয় মাছের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, হাওরে নতুন পানি পেয়ে মা মাছ ডিম ছাড়ছে। হাওরের অনেক স্থানে ডিম থেকে পোনাও বের হচ্ছে। অসাধু জেলেরা প্রতিনিয়ত বেড়জাল, সুতি জাল, টানা জাল দিয়ে এসব পোনা ধরছেন। ফলে মাছের প্রজনন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যদিও এসব বন্ধে প্রশাসন মাঝে মাঝে হাটবাজার ও হাওরে অভিযান চালাচ্ছে কিন্তু তা খুব একটা কাজ হচ্ছে না।

লাখাই উপজেলার বুল্লা বাজার, লাখাই ও লোকড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা টাকি, শোল, বোয়াল, পুঁটি, চিংড়ি, গজারসহ দেশি প্রজাতির পোনা বাজারে এনেছেন। দাম কিছুটা বেশি হলেও এসব মাছ কিনছেন ক্রেতারা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মাছের প্রজননের সময় যদি এভাবে পোনা নিধন করা হয়, তা হলে দেশি মাছের ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হবে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শুধু লাখাইর হাওরে নয়, জেলার ভাটি অঞ্চল হিসেবে খ্যাত আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় একই অবস্থা। যে যার মতো করে নানা জাতের জাল দিয়ে এসব মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এসব দেশীয় মাছের। 

সুভাষ সূত্রধর নামে এক জেলে জানান, মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ নেই তাঁর। তাই বাধ্য হয়েই হাওরে নামেন। হাওরে এখন পোনা মাছই জালে বেশি উঠছে। তাই জীবিকার তাগিদে সেই মাছ ধরে নিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন।

আরেক জেলে হাবিব মিয়া বলেন, হাওরে মাছ শিকার করা ছাড়া কাজ নেই। যা পান প্রতিদিন, তা দিয়েই সংসার চালে তাঁর। এখন যদি পোনা মাছ বিক্রি না করেন, তাহলে সংসার চলবে না। ক্রেতা ইমন আহমেদ বলেন, যদিও পোনা নিধন করা ঠিক নয়। বাজারে যা পাওয়া যায়, তাই কিনতে হচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, পোনা মাছ নিধনসহ অবৈধ জালের বিরুদ্ধে হাওরে নিয়মিত অভিযান চলমান। বেশ কয়েকটি অভিযানে নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ