নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনের বিভিন্ন অংশ। গত দুই দিনে কক্সবাজারের এই দ্বীপ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জোয়ারের পানির প্রবল ধাক্কায় দ্বীপের সমুদ্রতীরবর্তী ১১টি হোটেল ও রিসোর্ট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। উপড়ে পড়েছে বহু গাছপালা।
ক্ষতির শিকার হোটেলগুলো হলো– হোটেল অবকাশ, নোনাজল বিচ রিসোর্ট, আটলান্টিক রিসোর্ট, বিচ ক্যাম্প রিসোর্ট, নিল হাওয়া বিচ রিসোর্ট, শান্তিনিকেতন বিচ রিসোর্ট, মেরিন বিচ রিসোর্ট, পাখি বাবা রিসোর্ট, সি-ভিউ রিসোর্ট, ড্রিমার্স প্যারাডাইস রিসোর্ট, সানডে বিচ রিসোর্ট।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ৩ ফুট বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় দ্বীপের বিভিন্ন অংশের গাছপালা ভেঙে পড়েছে। লোকালয়ে পানি ঢুকে শতাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজার ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মুজিবুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলগুলো সরকারি অনুমোদন ছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েকটি হোটেলের বিরুদ্ধে বালিয়াড়ি দখলেরও অভিযোগ উঠেছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান বলেন, হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
এদিকে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর আবারও নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে। সোমবার সকালে দুটি নৌযান খাদ্যসামগ্রী ও ৭৭ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
পাহাড় ধসে মা ও শিশুসন্তান আহত
টানা ভারী বর্ষণে সোমবার রাঙামাটি শহরের বিএডিসি কার্যালয় এলাকায় পাহাড় ধসে শিশুসহ দু’জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ভারী বর্ষণে শহরের নার্সিং ইনস্টিটিউট এলাকায় দেয়ালধস ও কাউখালীতে ছোট ডলু এলাকায় কালভার্ট ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে পানি বেড়েছে কাপ্তাই হ্রদে।
জানা গেছে, সকালের দিকে শহরের বিএডিসি কার্যালয় এলাকায় পাহাড় ধসে গিয়ে একটি কাঁচা ঘরে গিয়ে পড়ে। ঘরের মধ্যে পরিবারের পাঁচজন থাকলেও দুজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন জসিমের স্ত্রী রোজি আক্তার ও তাঁর ৯ বছরের মেয়ে রানা।
পারকি সৈকতে তীব্র ভাঙন
জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারকি সৈকতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে বিলীন হয়ে গেছে সৈকতের বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি। উপড়ে পড়ছে শত শত ঝাউগাছ। ভেঙে গেছে সৈকতের আশপাশে বেড়িবাঁধ, দোকানপাট ও বিদ্যুতের খুঁটি।
এদিকে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরে আবারও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
প্লাবিত কমলনগরের নিম্নাঞ্চল
নিম্নচাপের প্রভাবে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল চার দিন ধরে প্লাবিত হচ্ছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। চুলা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় রান্নাও করতে পারছেন না। এ ছাড়া জোয়ারের পানির তোড়ে অসংখ্য কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে কয়েকশ পুকুর ও ঘেরের মাছ। ডুবেছে ফসলি জমি।
তিন বিভাগে ভারী বর্ষণের শঙ্কা
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
গতকাল আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় জানানো হয়, সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।























