ঢাকা   শনিবার
২৯ নভেম্বর ২০২৫
১৪ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ, ডিলারদের ফাঁদে আলুচাষিরা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:১২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ, ডিলারদের ফাঁদে আলুচাষিরা

জয়পুরহাটে সরকার নির্ধারিত দাম না মেনে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। জেলার বিভিন্ন বাজারে রসিদ ছাড়াই ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের দাম প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে। কৃষকরা ন্যায্য দামে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছেন।

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে সার নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। মনিটর শুরু হবার আগেই ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন। এছাড়া অনেক দোকানে সঠিক দামে সার পাওয়া গেলেও জোর করে প্যাকেটজাত বোরন ও দস্তা জৈব সার কিনতে হচ্ছে, যেগুলো নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। আলু রোপণের মৌসুমে এসব ঝামেলায় তারা পড়ছেন বেশি বিড়ম্বনায়। প্রতিবাদ করলেই সার দেওয়া বন্ধ করে দেন ডিলাররা। রসিদ চাইলে বিক্রেতারা সার দিতে অস্বীকৃতি জানান।

কালাই উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা ডিএপি সারের সরকারি দাম ২ হাজার ৫০ টাকা। আমাদের ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কৃষি অফিসে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।’

আক্কেলপুর উপজেলার নামা গোপীনাথপুরের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, সাড়ে সাত বিঘা জমিতে আলু রোপণের সব প্রস্তুতি শেষ। সার না পাওয়ায় রোপণ করতে পারছেন না। বাজারে কৃষকের ভিড়, শেষ পর্যন্ত সার পাবের কিনা জানেন না।

ক্ষেতলালের মুন্দাইল গ্রামের সোহাগ প্রামাণিক বলেন, ‘সরকারি দামে সার পাওয়া গেলেও বাধ্যতামূলকভাবে সাত হাজার টাকার প্যাকেটজাত জৈব সার নিতে হয়েছে। না হলে সার দিত না।’

অপরদিকে বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন জোগান সংকটে। কালাই উপজেলার নুনুজ বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই আমরাও একটু বেশি নিই।’

হাতিয়র বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মূল ডিলারের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনেছি। এখন কৃষকদের কম দামে কীভাবে দেব?’

জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এলোমেলোভাবে ডিলার নিয়োগ করায় বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। যত হাত বদল হবে, দামও তত বাড়বে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলছেন, ‘জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার হেক্টর। ইউরিয়ার বরাদ্দ কম হলেও সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। দাম বেশি নেওয়া বা সংকটের অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ