শীতকালীন সবজি উৎপাদন না করে শুধু সবজির চারা চাষ করছেন যশোরের আব্দুলপুরের কয়েকশো কৃষক। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৩০ কোটি উন্নত মানের সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে এখানে, যার বাজার মূল্য ২৫ কোটি টাকারও বেশি। এখানকার উৎপাদিত সবজি চারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
যশোরের চৌগাছা সড়কের আব্দুলপুর গ্রামের রাস্তার দু’পাশে দেখা মেলে শত শত পলিথিনে ঢাকা সবজি বীজতলার। প্রতি বছর আষাঢ় মাস থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় বীজতলা প্রস্তুত করে বাঁধাকপি-ফুলকপি, টমেটো, বেগুণ, মরিচসহ বিভিন্ন সবজির বীজ বপণ করেন এ গ্রামের কয়েকশো কৃষক। এরপর ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন তারা।
আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম। ২ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুনসহ বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করেছেন। তিনি বলেন, এ জমিতে ৬ মাসে চারা উৎপাদন খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এখানে ৬০ থেকে ৭০ লাখ চারা উৎপাদন হবে। আশা করা যায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে। একই অবস্থা এ অঞ্চলের অন্য চাষিদেরও।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এটি ব্যয়বহুল একটি ব্যবস্থা। এজন্য কৃষকরা তাদের থেকে চারা কিনে থাকেন। পাশাপাশি অনলাইন পেজের মাধ্যমেও চারা বিক্রি করে থাকেন তিনি।
ঝিকরগাছা, গদখালী, নাভারণ, চৌগাছা, মণিরামপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবনডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, নড়াইল, লোহাগড়া, সাতক্ষীরা জেলার কৃষক ও সবজি চারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন এখানকার উৎপাদিত চারা।
বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি হাজার ফুলকপির চারা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাঁধাকপির চারা মানভেদে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, টমেটো ও বেগুন ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য চারা প্রতিপিছ ১ টাকা থেকে ৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে এবছর চারার দাম কম বলে জানান চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, প্রায় সবরকম জাতের চারা তারা উৎপাদন করেন। সব খরচ বাদ দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন কৃষকরা।
মানসম্মত কপির চারা উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি কৃষকদের বাজার ব্যবস্থাসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।
আব্দুলপুরের কৃষকদের উৎপাদিত এসব কপির চারার মান ভালো অন্যদিকে দামও কম। যাচাইবাছাই করে ক্রয় করতে পারেন বলে জানালেন চারা ক্রয় করতে আসা কৃষকরা।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক প্রতাপ মন্ডল বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে তাদের চারা উৎপাদনের উপর বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। ভালো চাষিদের পুরস্কারের আওতায় এনে তাদের উৎসাহ দিয়ে থাকি।’
যশোরে ৪০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন বীজ রোপণ করা হয়। আর এর থেকে ৩০ কোটি চারা উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।























