‘প্রাকৃতিক উৎস সুরক্ষা করি, সবুজ বিশ্ব গড়ি’-এ প্রতিপাদ্যে দেশিয় বীজ সম্পদ ও কৃষি বৈচিত্র্য রক্ষায় কৃষি প্রতিবেশ বিদ্যার গুরুত্ব বিষয়ে মানিকগঞ্জে এক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (শনিবার, ২২ নভেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার বিআরডিবি হল রুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিকের আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাসির মাহমুদ। বারসিকের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিকের মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়। এছাড়া বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ আলী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, রত্না আক্তার প্রমুখ।
দেশিয় বীজ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা নাগরিক সংলাপে বলেন, দেশের কৃষিকে টেকসই করতে হলে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন স্থানীয়ভাবে অভিযোজিত দেশিয় বীজ সম্পদ সংরক্ষণ করা।
তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কৃষিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্ষার মাঝামাঝি খরা, অপ্রত্যাশিত বন্যা, অতিবৃষ্টির কারণে ফসলহানি, পোকামাকড়ের বাড়তি আক্রমণ এসব সমস্যা মোকাবিলায় কৃষকদের সুরক্ষা দেয় দেশিয় জাতের ফসল। কারণ এসব বীজ যুগের পর যুগ ধরে স্থানীয় মাটি, পানি, আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে অভিযোজিত।
বক্তারা হাইব্রিড ও আমদানি–নির্ভর বীজের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ঝুঁকি উল্লেখ করে বলেন, এতে কৃষকের বীজের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। আর প্রতি মৌসুমে নতুন করে বীজ কিনতে হয় যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষির স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। তাই কৃষক–যুবসমাজকে দেশিয় বীজ চাষ, সংরক্ষণ, বিনিময় চর্চা এবং জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সংলাপে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, এটি এমন এক কৃষি পদ্ধতি যেখানে প্রকৃতি, পরিবেশ ও উৎপাদন এ তিনটির সমন্বয় করে চাষাবাদ করা হয়। এর মাধ্যমে মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি, পানির সাশ্রয়, কীটনাশক ও রাসায়নিক সার কম ব্যবহার, পরাগায়নকারী পোকামাকড় রক্ষা ও মাঠের জীববৈচিত্র্য বাড়ানো নিশ্চিত করা যায়।























