অনুকূল আবহাওয়া, নির্ধারিত সময়ে প্রণোদনার বীজ ও সার সরবরাহ, নিবিড় পরিচর্যা ও পরিশ্রমের কারণে ঈশ্বরদীতে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে রোপা আমনের উৎপাদন। মাঠে মাঠে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশানুরূপ ফলন পেয়ে কৃষকও খুশি।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নমুনা শস্য কর্তনও শুরু হয়েছে আরামবাড়িয়ার গোপালপুর গ্রাম থেকে। এরপরই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের বিষয়টি জানানো হয়।
কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ২০০ টন। সাতটি ইউনিয়নে কমবেশি ধানের আবাদ হলেও মুলাডুলি ও দাশুড়িয়া ইউনিয়নে ধান উৎপাদন তুলনামূলক বেশি হয়। এ ছাড়া পৌরসভার ইস্তা ও নারিচা এলাকাতেও ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্য।
পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাঠের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালো হবে।’ কৃষক নজরুল ইসলামের ভাষ্য, এবার প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ ধান উৎপাদন হবে। এক বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। ২০ মণ ধান বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। খরচ বাদে ১৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে বলে জানান এই কৃষক।
সাঁড়া ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুল আলীম জানান, সময়মতো বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। হাইব্রিড জাতের ধান বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২২ মণ এবং উফশী জাতের ধান ১৮ থেকে ২০ মণ পাওয়া যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আশা করা যাচ্ছে। কৃষি প্রণোদনার উপকরণ সময়মতো বিতরণ, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকির কারণে এ ফলন সম্ভব হয়েছে।























